শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত: ঢাকায় ব্লেন্ডেড ক্লাস চালু


রাজধানী ঢাকার কিছু বড় ও সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে ব্লেন্ডেড শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন অনলাইনে এবং বাকি দিন সশরীরে ক্লাসে অংশ নেবে। মূলত যানজট কমানো, সময় সাশ্রয়, জ্বালানি খরচ হ্রাস এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, সরকার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জোরপূর্বক এই ব্যবস্থায় আনতে চায় না। বরং যেসব বড়, সুনামধন্য এবং অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার সক্ষমতা সম্পন্ন স্কুল ও কলেজ রয়েছে, সেগুলোর জন্যই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন,

“আমরা কাউকে বাধ্য করছি না। বৃহৎ স্কুলগুলো, ভালো স্কুলগুলো, তাদের ব্লেন্ডেড এডুকেশনে যাওয়ার জন্য আমরা এই কাজগুলো নিয়েছি।”

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন,

“এটা করোনা নয় যে জোর করে করা হবে। এটা ব্লেন্ডেড এডুকেশন।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে বেশি শিক্ষার্থীর সমাগম হয় এবং অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত বা পরিবহন ব্যবস্থায় স্কুলে আসে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে সামনে রেখেই এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে,

“আমরা কোনো হার্ড অ্যান্ড ফাস্ট রুলে যাচ্ছি না।”

অর্থাৎ, বিষয়টি আপাতত বাধ্যতামূলক নয়, বরং পরিস্থিতি, প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনায় এটি বাস্তবায়ন করা হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর মতো অতিরিক্ত যানজটপূর্ণ শহরে এই ধরনের ব্লেন্ডেড শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতজনিত সময় অপচয় কমবে, অভিভাবকদের ওপর চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও নমনীয় ও আধুনিক করে তোলা সম্ভব হবে।

তবে এ ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হবে মানসম্মত ইন্টারনেট সংযোগ, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, প্রশিক্ষিত শিক্ষক, উপযুক্ত ডিজিটাল কনটেন্ট এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। তা না হলে এই উদ্যোগ কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর হলেও সবার জন্য সমানভাবে সুফল বয়ে আনতে নাও পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post